গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত জাতীয় ক্রীড়া দিবস

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ আগস্ট : উৎসাহ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার পালিত হল জাতীয় ক্রীড়া দিবস। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতীয় হকির কিংবদন্তি খেলোয়াড় মেজর ধ্যানচাঁদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, প্রধান অতিথি ক্রীড়া আইকন মৃণাল কান্তি রায়, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, কলেজ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের পরিচালক তথা ছাত্রকল্যাণের ডিন ড. জয়দীপ পাল-সহ বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও পড়ুয়ারা।

প্রধান অতিথি মৃণাল কান্তি রায় তাঁর বক্তব্যে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান। জীবনের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। লক্ষ্য স্থির রেখে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়ুয়াদের অনুপ্রাণিত করেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলগত সংহতির মানসিকতা গড়ে তোলে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে মেজর ধ্যানচাঁদের জীবন ও কৃতিত্ব থেকে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ফিট ইন্ডিয়া শপথ’। ড. সৌরভ দাস শপথবাক্য পাঠ করান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মী ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপন, দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্যদেরও সুস্থ থাকার জন্য উৎসাহিত করার শপথ নেন।

এদিন একটি উন্মুক্ত কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। খেলাধুলা, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিভিন্ন অর্জন নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

এছাড়া ড. নজরানার তত্ত্বাবধানে পাঁচটি পৃথক বিভাগে আয়োজিত ছেলে ও মেয়েদের আর্ম-রেসলিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অভিজিৎ জয়সওয়ালের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. রিম্পি সোনোয়াল। শেষে ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *