শিলংয়ে KSU-এর কালো পতাকা বাইক র‍্যালিকে ঘিরে উত্তেজনা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৯ আগস্ট : খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU)-এর আয়োজিত কালো পতাকা বাইক র‍্যালিকে কেন্দ্র করে বুধবার শিলং শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। র‍্যালি চলাকালীন একাধিক সাধারণ নাগরিককে মারধর, বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং সরকারি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পোলো, বারিক ও মাওলাই এলাকায় এই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

রাজ্য সরকারের পাঁচ দফা দাবির প্রতি কথিত উদাসীনতার প্রতিবাদে KSU এই র‍্যালির আয়োজন করে। পোলো এলাকায় পুলিশের এসকর্ট গাড়ি ML 05 AC 7081-এর পাশের কাচ ভাঙচুর করা হয়। বারিকে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের একটি গাড়ির পিছনের কাচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া AS 01ES 8243, AS 11AH 5190, ML 01 5620 এবং ML 01 A 0966 নম্বরের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

ML 05 AD 0925 নম্বরের একটি পিকআপ ট্রাক এবং টেলিকম দফতরের AS 01P 2707 নম্বরের ট্রাকেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। মাওলাইয়ের FCI এলাকায় একটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, RR কলোনিতে ২০২৫ সালে RRCWS-এর উদ্যোগে স্থাপিত স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির কাচের প্যানেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মেইন সেক্রেটারিয়েটের সামনে KSU কর্মীরা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ করেন। নিয়োগে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেখানে ব্যানার টাঙানো হয়। পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যানার সরিয়ে দেয় এবং সচিবালয় চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করে। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করি, পরীক্ষায় পাশ করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা ঘুষ দিতে পারে, চাকরি তাদেরই দেওয়া হয়।”

১৭ ও ১৮ আগস্ট শিলংয়ের বিভিন্ন স্থানে KSU-এর ধারাবাহিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরেই এই বাইক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এর আগে সংগঠনটি রাজ্য সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছিল।

KSU-এর পাঁচ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হল ৩১ জুলাই ২০২৬ পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলসে শ্রী সিমেন্টের জনশুনানি নিয়ে তদন্ত। সংগঠনটির অভিযোগ, ওই জনশুনানি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এ ঘটনায় ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, পদস্থ পুলিশ আধিকারিক এবং মেঘালয় স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। জনসাধারণের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবিও তুলেছে KSU।

এছাড়াও Meghalaya Residents Safety and Security Act, 2016 সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা, ILP চালু না হওয়া পর্যন্ত খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ের ১৮টি প্রবেশপথে ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার স্থাপন এবং Dorbar Shnong-এর মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংশোধিত Meghalaya Migrant Workmen Act, 2020 অবিলম্বে কার্যকর করা, NEIGRIHMS-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার, নার্স নিয়োগে ৮০:২০ নারী-পুরুষ অনুপাত, খাসি, জয়ন্তিয়া ও গারোদের জন্য যথাযথ সংরক্ষণ এবং গ্রেড B, C ও D পদে ইন্টারভিউ প্রথা বাতিলের দাবিও রয়েছে KSU-এর সনদে। পাশাপাশি সমস্ত নিয়োগ বোর্ডের জন্য Standard Operating Procedure (SOP) চালুর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *