১৬ আগস্ট : তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য চুক্তির কাঠামো উন্মুক্ত রয়েছে।
এরদোগানের মতে, মিসরের এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে অনেক বিশ্লেষক চুক্তিটির এই বিধানকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এটি ন্যাটোর বিকল্প নয় এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোটও নয়।
চুক্তির আওতায় তিন দেশ রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কাজ করবে। স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মিসর এতে যোগ দিলে জোটটির ভৌগোলিক ও সামরিক গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মিসরের সামরিক সক্ষমতা এবং সুয়েজ খালের কৌশলগত অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোটিকে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এরদোগান। তিনি বলেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া তুরস্কের অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘ সময় নৌচলাচল বন্ধ থাকা কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে এই নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরদোগান বলেন, সংকটের সময়ে তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে যাবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক কাজ করবে বলেও জানান তিনি এবং সিরিয়ার কুর্দিদের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তুরস্ক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে একা ছেড়ে যাবে না এবং গাজার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। লেবাননে ইজরায়েলি হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে লেবাননে সংঘাত বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান এরদোগান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা



