১৫ আগস্ট : মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাতের মধ্যে কুকি ও মেইতেই—উভয় গোষ্ঠীকেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানাল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে মণিপুরগামী জাতীয় সড়কে চলা অবরোধ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অবরোধের কারণে রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার কুকি উইমেন অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে। আবেদনে জাতীয় সড়ক-২-এর অবরোধ প্রত্যাহার এবং মণিপুরে জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতীয় সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য জীবনরেখার মতো। সড়ক অবরোধের ফলে জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব মানুষকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, “দুই পক্ষ কেন বিষয়টি বুঝতে পারছে না? জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কোনও পক্ষেরই লাভ হচ্ছে না। কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার হস্তক্ষেপে কেন সড়কটি খুলে দেওয়া যাবে না?”
আবেদনকারী সংগঠনের হয়ে সিনিয়র আইনজীবী আনন্দ গ্রোভার আদালতকে জানান, মণিপুরের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। দীর্ঘদিনের অবরোধের ফলে খাদ্য, ওষুধ, শিশুখাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলির সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

বেঞ্চ পরিস্থিতিকে মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে স্বীকার করলেও রাজ্যের নাজুক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কোনও এমন ব্যাপক নির্দেশ দিতে চায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আদালত ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (NHAI)-কে মামলায় পক্ষভুক্ত করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় সড়ক-২ ছাড়াও মণিপুরের সঙ্গে সংযোগকারী অন্য কোনও জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ রয়েছে কি না এবং অবরোধের জন্য কারা দায়ী—তা জানিয়ে উভয় পক্ষকে সংক্ষিপ্ত নোট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত উভয় পক্ষকে “এখন শান্তির কথা ভাবতে” বলেছে এবং কোনও নিরপেক্ষ সংস্থা বা নাগরিক সমাজের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জাতীয় সড়কে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার, মণিপুর সরকার এবং NHAI-এর জবাব পাওয়ার পর দুই সপ্তাহ পরে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে মণিপুরে ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই সম্প্রদায় এবং পাহাড়ি জেলাগুলিতে বসবাসকারী কুকি-জো উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত চলছে। নাগাল্যান্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়ক-২ কাংপোকপি হয়ে ইম্ফলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং এটি মণিপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ হিসেবে বিবেচিত।




