স্বাধীনতা দিবসে দেশপ্রেম, উন্নয়ন ও আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা মোদির, ‘দিমাগি নকশাল’দের বিরুদ্ধেও সরব প্রধানমন্ত্রী

Spread the news

১৫ আগস্ট : বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, পুষ্পবৃষ্টি ও ‘বন্দে মাতরম’-এর ধ্বনিতে শনিবার দেশজুড়ে পালিত হল ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে টানা ত্রয়োদশবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি।

এবারের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে লালকেল্লায় গানটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ পরিবেশিত হয়। ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ এমএম লাইট ফিল্ড গান থেকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো হয়।

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ দেশের প্রতিটি হৃদস্পন্দনে বেজে চলেছে বন্দে মাতরম।” গত এক দশকে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, একসময় ‘ফ্রাজাইল ফাইভ’-এর তালিকায় থাকা ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। দেশের ১৪০ কোটি মানুষের সংকল্প ভারতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর, ক্রিটিক্যাল মিনারেল ও শক্তি সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা আগামী দিনের ভারতের শক্তির অন্যতম ভিত্তি হবে। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

‘দিমাগি নকশাল’দের বিরুদ্ধে মোদির কড়া বার্তা
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে মাওবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, সশস্ত্র নকশালদের বিরুদ্ধে অভিযান সফল হলেও এখনও একটি শ্রেণি হিংসা, অশান্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এই ধরনের ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে নির্দিষ্টভাবে কাদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মাওবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী বা ‘আরবান নকশাল’ হিসেবে পরিচিত মহলের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

মোদির দাবি, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে জঙ্গলে থাকা সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। একসময় মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ থাকলেও বর্তমানে সেখানে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বেড়েছে এবং মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

এক কোটি যুবক-যুবতীকে এআই প্রশিক্ষণের ঘোষণা।
এদিন যুবসমাজের জন্যও বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের বাজারের কথা মাথায় রেখে এক কোটি যুবক-যুবতীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তোলা জরুরি। এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং ও এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময়সূচি এবং যোগ্যতার মাপকাঠি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশেও গোটা দেশ রয়েছে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার চেতনাকে সামনে রেখে ঐক্য, উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার বার্তাই এদিনের ভাষণে প্রধান হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *