অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে টিএমপিকে-র অর্থনৈতিক অবরোধ স্থগিত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ আগস্ট : অসম-অরুণাচল সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ ও পথ অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে তাকাম মিসিং পরিন কেবাং (টিএমপিকে)। সংগঠনের দাবিগুলি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দু’দিন ধরে অসম-অরুণাচল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। বুধবার থেকে বিশ্বনাথ ও লখিমপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় টিএমপিকে-র নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অবরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্বনাথ জেলার গোহপুরের রাজগড়ে অসম-অরুণাচল সীমান্ত প্রবেশপথে অবরোধ কার্যকর করা হয়। একইভাবে লখিমপুর জেলার চারটি স্থানেও টিএমপিকে-র নেতৃত্বে অবরোধ চলছিল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ধেমাজি জেলার ইন্টিগ্রেটেড ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ে টিএমপিকে নেতাদের সঙ্গে অসমের মন্ত্রী ড. রণোজ পেগু ও অতুল বোরার বৈঠক হয়। সংগঠনের দাবিগুলি পূরণের বিষয়ে মন্ত্রীদের আশ্বাসের পর টিএমপিকে নেতৃত্ব তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা করে।

টিএমপিকে-র প্রধান তিনটি দাবি হল—গুলিচালনার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আলোচনায় অংশ নিতে না দেওয়া এবং অসম-অরুণাচল সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান করা।

টিএমপিকে-সহ বিভিন্ন সংগঠন দ্রুত শান্তিপূর্ণ আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছে।

বৈঠকে দুই মন্ত্রী ছাড়াও ডেপুটি কমিশনার রাহুল সুরেশ জাভেরি, চিচিবরগাঁওয়ের বিধায়ক জীবন গগৈ, মিসিং অটোনোমাস কাউন্সিলের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য পরমানন্দ চায়েঙ্গিয়া এবং টিএমপিকে, আটাসু ও অসম জাতীয়তাবাদী যুব পরিষদ-সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর মন্ত্রী অতুল বরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার সমাধানে অসম সরকার এগিয়ে চলেছে। অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গেও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি জানান, অসমের সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের পর ফের আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৫২টি সীমান্তবর্তী গ্রামের সীমানা নির্ধারণের কাজ বাকি রয়েছে।

সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলিচালনার ঘটনাকে দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেন বরা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অসম পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনাকে সীমান্ত বিরোধের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি মূলত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়।

মন্ত্রী আরও জানান, অসম পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একইসঙ্গে আগের কংগ্রেস সরকার সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য গঠনের সময়ই যদি এই সমস্যাগুলির সমাধান করা যেত, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *