১০১ জনের মৃত্যু, ৬৩টি গ্রাম বন্যাকবলিত; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণের জন্য চলছে সমীক্ষা : হিমন্ত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১২ আগস্ট : উজান অসমের শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং রাজ্য সরকারের গৃহীত তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়ে বুধবার দিসপুরের লোকসেবা ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় এখনও পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৬৩টি গ্রাম বন্যার কবলে রয়েছে। ১৫টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৪,১৮৮ জন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯৩টি বিদ্যালয়ের প্রতিটির জন্য ২ লক্ষ টাকা করে মোট ১৫.৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টের পর অবশিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলিও পুনরায় পাঠদানের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের ইউনিফর্মের পাশাপাশি এককালীন ১ হাজার, ২ হাজার ও ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ৪৯৪টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র মেরামতের জন্য ২ লক্ষ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়েছে। ভাদ্র মাস শুরুর আগেই, অর্থাৎ ২০ আগস্টের মধ্যে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নামঘরগুলিকে দেড় লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় অরুণোদয় প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ লক্ষ পরিবারকে ২,৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬৪,৮৯১টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩১,২১২টি পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় ব্যাপক স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের জন্য রাজস্ব বিভাগ একটি পোর্টাল চালু করেছে এবং ৯ আগস্ট থেকে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজে ৯৬০ জন শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮,৩২৫টি পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এসব পরিবারের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা হতে পারে।

সমীক্ষার কাজ ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরপর একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা জানানোর সুযোগ থাকবে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই ক্ষতিপূরণ পান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম তালিকার ভিত্তিতে পুনরায় সমীক্ষা করা হবে। দুই দফা যাচাইয়ের পর ১৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা তালিকাটি পুনরীক্ষণ করবেন। এই যাচাই অন্য জেলার আধিকারিকদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার পরিবারের ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই যাতে ক্ষতিপূরণ পান, তার জন্য সঠিকভাবে সমীক্ষা সম্পন্ন করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে, নেপালিখুঁটি, কমলবস্তি, মাজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশেষ করে এসব এলাকার বহু বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ওই এলাকাগুলিতে ‘মডেল হাউজিং’ নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে সরকার।

একই সঙ্গে যেসব এলাকায় ব্যাপক গো-ধনের ক্ষতি হয়েছে, সেখানে পুনরায় গবাদি পশু সরবরাহ করে দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকার গ্রহণ করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *