বরাক তরঙ্গ, ৫ আগস্ট : আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত জরাজীর্ণ সড়কের অবিলম্বে সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
ছাত্রদের অভিযোগ, কয়েক মাসে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হলেও সড়কটির সংস্কারের জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স এই সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে এর বেহাল অবস্থা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছাত্রনেতা স্বপ্নদীপ সেন বলেন, “এটি কোনও রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য একটি সড়কের দাবিতে ছাত্রদের রাস্তায় নামতে হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।” অন্য এক ছাত্রনেতা উৎসব সিং বলেন, “একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। জনগণ ভোগান্তির শিকার হলেও প্রশাসনের জবাবদিহিতা কোথায়?”
পরবর্তীতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের একাধিক দফা আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, আগামী ৯ আগস্ট থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অস্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং দশ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, পিএম-ডিভাইন (PM-DevINE) প্রকল্পের অধীনে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ থেকে আইরংমারা পর্যন্ত সড়কের স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় অনুমোদিত হলে পূর্ণাঙ্গ কাজও শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন দেবরাজ দাস, অর্পণ চক্রবর্তী, সৌমেন পাল, সুরজ আচার্য, তন্ময় আচার্য, শুভম রায়, কৌশিক দাস, মুকুন্দ কুমার, সুদেষ্ণা দে, স্বপ্নদীপ সেন, উৎসব সিংসহ বহু সাধারণ ছাত্রছাত্রী।
লিখিত আশ্বাসকে স্বাগত জানালেও ছাত্ররা জানিয়েছেন, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। জেলা প্রশাসনের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



