৩ আগস্ট: পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের অভিযান শেষ হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে ২০৩০ সালের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। আগামী আসর অনুষ্ঠিত হবে গুজরাটের আহমেদাবাদে। এবারের আসরে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি স্বর্ণ, ১৭টি রৌপ্য এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। এই সাফল্যের সুবাদে পদক তালিকায় ভারত চতুর্থ স্থান দখল করে।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী জ্যাভলিন তারকা নীরজ চোপড়া। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (আইওএ) সভাপতি পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। তাঁদের হাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্কটল্যান্ড তাদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বর্ণাঢ্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এরপর মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ভারত। দুই দেশের শিল্পীদের যৌথ পরিবেশনার পাশাপাশি ভারতের আয়োজিত সাংস্কৃতিক পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের অংশগ্রহণে ভারতের ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। পাশাপাশি ২০৩০ সালের আয়োজক শহর আহমেদাবাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিউক অব এডিনবরো প্রিন্স এডওয়ার্ড। তিনি ক্রীড়াবিদ, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কমনওয়েলথের ঐক্য, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সবাই। একই সঙ্গে তিনি ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষ উদযাপনে বিশ্বের সব দেশের ক্রীড়াবিদদের আমন্ত্রণ জানান। শেষ পর্বে স্কটল্যান্ডের গান, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে গ্লাসগোকে আবেগঘন বিদায় জানানো হয়। মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হয়।



