মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ আগস্ট : করিমগঞ্জ জেলার রামকৃষ্ণনগর বিধানসভা এলাকার রাতাবাড়ী থানার অন্তর্গত ডালুয়াছড়া গ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি রহস্যজনক মৃত্যু বলে মনে হলেও, পরে মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করায় মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
পরিবারের দাবি, নাবালিকাটি মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি গাছে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাতাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে পাঠায়। শনিবার রাতেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং রাতেই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়।
রবিবার মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে রাতাবাড়ী থানায় দায়ের করা এফআইআরে জাবির হুসাইন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেয়। অভিযুক্ত পাথারকান্দি থানার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও ডালুয়াছড়ায় মামার বাড়িতে থেকে একটি রাবার বাগানে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতার পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, রাতাবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারে তল্লাশি চলছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।



