গাজা নিয়ে শান্তি চুক্তির দাবি, অস্ত্র সমর্পণ ও সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখা প্রকাশ

Spread the news

৩১ জুলাই : গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার অংশ হিসেবে হামাস পর্যায়ক্রমে তাদের অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকার দখলকৃত এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে ইজরায়েল।

প্রকাশিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গাজার সব অস্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে ভারী অস্ত্র, সামরিক স্থাপনা, সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক এবং গোলাবারুদের গুদাম শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় প্রশাসনিক কমিটি’।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র সরাসরি ইজরায়েল বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির কাছে হস্তান্তর করা হবে না। পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ কমিশন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। অস্ত্র সমর্পণের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতির ভিত্তিতে ইজরায়েলি সেনারা নির্ধারিত সীমান্তরেখার দিকে সরে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

গাজা বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এই উদ্যোগকে গাজার পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, হামাসের নীতি-নির্ধারণী প্রতিনিধি গাজী হামাদ বলেছেন, ইজরায়েল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে বা বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে হামাসও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *