কয়েদি পলায়নের তদন্ত চলাকালীন আত্মহত্যা গোলাঘাট জেলের হেড ওয়ার্ডেনের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুলাই : গোলাঘাট জেলা কারাগার থেকে তিন বন্দি পালানোর ঘটনার তদন্ত চলাকালীন আত্মহত্যা করেছেন জেলের হেড ওয়ার্ডেন রেবকান্ত তামুলি। বৃহস্পতিবার কারাগার চৌহদ্দির ভেতরে তাঁর সরকারি আবাসন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক বন্দি পলায়নের ঘটনার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

যোরহাট জেলার ভোগদৈ এলাকার বাসিন্দা রেবকান্ত তামুলীর অবসরের আর মাত্র এক মাস বাকি ছিল। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি ঘিরে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার গোলাঘাটের শহিদ কুশল কোঁয়র সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন বন্দি পালিয়ে যায়। পলাতকরা হল নাজিবুর রহমান বরা (২৮), রূপম কলিতা (৩১) এবং অজয় গোয়ালা (৩৪)। নাজিবুর রহমান স্ত্রী ও বাবা-মাকে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত ছিলেন। অন্য দুই বন্দি পৃথক চুরির মামলায় আটক ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুলাই ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে হাসপাতালের বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষিত কেবিন থেকে তারা পালিয়ে যায়। কেবিনটি দুটি লোহার গেট দিয়ে সুরক্ষিত থাকলেও তদন্তে উঠে এসেছে, অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি চাবি ব্যবহার করেই তারা বাইরে বেরিয়ে আসে। এরপর কর্তব্যরত পুলিশকর্মী দীপু শইকিয়ার মোটরসাইকেল নিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

ঘটনার পর থেকেই গোলাঘাট পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নাকা-চেকিং চালানো হচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিন পলাতক বন্দির কোনও সন্ধান মেলেনি।

এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে তিন পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোলাঘাটের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ রাজেন সিং জানান, তদন্তে তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বন্দিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। গ্রেফতার হওয়া পুলিশকর্মীরা হলেন দীপু শইকিয়া, বীরেন বরা এবং কনস্টেবল কৃষ্ণ দাস। কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে ঘটনার সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধেই কর্তব্যে গাফিলতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, নাজিবুর রহমানের ভাই হিজবুর রহমানকেও বোকাখাট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক বন্দিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না বা পালাতে তিনি কোনওভাবে সাহায্য করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বন্দিদের হাসপাতাল থেকে পালানোর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কীভাবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও তিন বন্দি সুরক্ষিত কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে হাসপাতালের সুপার ডা. দিলীপ ডেকার বিরুদ্ধে এখনও কোনও মামলা দায়ের বা গ্রেফতারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এরই মধ্যে হেড ওয়ার্ডেন রেবকান্ত তামুলীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে বন্দি পলায়নের ঘটনার কোনও সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। একইসঙ্গে তিন পলাতক বন্দির সন্ধানে অভিযান এবং পলায়নকাণ্ডের তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *