শিল্প-সংস্কৃতির শেকড়ে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ করিমগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন সাংস্কৃতিক কর্মশালার সমাপ্তি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুলাই :
আধুনিকতার প্রবল স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা লোকঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁ দিতে অসম সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন সাংস্কৃতিক কর্মশালার সফল সমাপ্তি হয়েছে দক্ষিণ করিমগঞ্জে। সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের উদ্যোগে এবং দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় স্বামী বিরজনন্দ বিদ্যানিকেতন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠান এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য শুধু শিল্পকলার প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করা। বক্তাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি গ্রামীণ প্রতিভা বিকাশ এবং বিলুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধান অতিথি নিলামবাজার জেলা পরিষদের সদস্য রাজা রায় বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় সরকারের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি জানান, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা শুধু গান, নৃত্য বা অঙ্কন শেখেনি, বরং নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগও পেয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি রামাক্ষর রায় এবং অধ্যক্ষ কল্পনা দাস সরকারি উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষাও একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় লোকসংগীত, ভাটিয়ালি, বাউল, জারি, সারি, পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, গণসংগীত এবং অঙ্কনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রপ্রদর্শনী উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়।

করিমগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অরূপ রায় বলেন, সংস্কৃতি কখনও বিভেদের নয়, বরং ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বন্ধন গড়ে তোলে। গ্রামীণ ও শহুরে সংস্কৃতির ব্যবধান দূর করতে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তিনি সকলকে শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। শিব দুর্গা ক্লাবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অসমের গ্রামীণ শিল্প-সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন প্রজন্ম নিজেদের শেকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *