বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ছাত্রছাত্রীদের কিছু দাবি কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় ছাত্র ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে এআইডিএসও গুয়াহাটিতে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। রবিবার সংগঠনের অসম রাজ্য কাউন্সিলের উলুবাড়িস্থিত কার্যালয় থেকে দুপুর একটায় মিছিল বের হয়ে জিএস রোড ধরে কিছুদূর এগিয়ে ফের কার্যালয়ে ফিরে আসে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্র-যুবসমাজ এবং সাধারণ জনগণকে তাদের দাবি আদায় ও শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এই আন্দোলনের বিজয় আবারও প্রমাণ করল যে, যখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছাত্র-যুবসমাজ রুখে দাঁড়ায়, তখন কোনো স্বৈরাচারী শক্তিই আর অটল থাকতে পারে না।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এও বলা হয় যে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্রে অপরাধমূলক অবহেলার দায় স্বীকারের পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ দ্বারা পরিচালিত বলে অভিহিত করেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই আন্দোলন ছাত্র, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসহনীয় যন্ত্রণা থেকেই জন্ম হয়েছে। এই যন্ত্রণার কারণ হলো এক স্বৈরাচারী শাসকের কর্পোরেট-ঘেঁষা নীতিসমূহ, যা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, বেকারত্ব সংকটকে তীব্রতর করেছে এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিকতার সমস্ত দিককে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ছাত্র ও যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যেন তারা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বাতিলের সংগ্রাম অব্যাহত রাখে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায়—কারণ জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০২০ মূলত এই সমস্ত ক্ষতিকর পরিস্থিতিতে জন্য দায়ী। এআইডিএসও-র পক্ষ থেকে দেশের বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তি—বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনগুলোর—প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যেন তারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসেন এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষায় লড়াইকে আরও জোরদার করে গড়ে তোলেন।
এআইডিএসও’র রাজ্য কাউন্সিলের সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য ও রাজ্য কাউন্সিলের অফিস সম্পাদক রূপশ্রী গোস্বামী, গুয়াহাটি জেলা কমিটির সম্পাদক সিমি গগৈ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।



