ভারতমালা প্রকল্পে প্রায় ৬০ কোটি টাকার কথিত দুর্নীতির অভিযোগে বিধানসভায় সরব আমিনুর রশিদ

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুলাই:
অসম বিধানসভার চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী তাঁর বিধানসভা এলাকার একাধিক জনস্বার্থমূলক সমস্যা তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাবদিহি ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান। বেহাল সড়ক, ভারতমালা প্রকল্পে কথিত অনিয়ম, জমি অধিগ্রহণে অসঙ্গতি, জল জীবন মিশনের (JJM) ব্যর্থতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে তিনি সরব হন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষিণ করিমগঞ্জের বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বারবার মেরামতের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতমালা প্রকল্প প্রসঙ্গে বিধায়ক দাবি করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার কথিত আর্থিক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কাজের মান, ব্যয় ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ধীরগতির কাজ এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষিজমিকে শিল্পজমি হিসেবে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গুরুতর অসঙ্গতি করা হয়েছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, ব্যয়ের নিরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

জল জীবন মিশন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, বহু গ্রামে পাইপলাইন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছাচ্ছে না। অনেক প্রকল্প অসম্পূর্ণ বা কার্যকর না হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার এখনও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
বক্তব্যের শেষে তিনি দক্ষিণ করিমগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির দ্রুত সংস্কার, ভারতমালা প্রকল্পের অভিযোগের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম খতিয়ে দেখা এবং জল জীবন মিশনের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করে প্রতিটি পরিবারে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিধানসভায় তাঁর উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভারতমালা প্রকল্পে কথিত আর্থিক অনিয়ম ও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *