বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুলাই : ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত আসামের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ২৫টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত থাকলেও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ১১টি জেলা বন্যার প্রভাবে রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, এই ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগর জেলায় ৪ জন এবং চরাইদেউ জেলায় ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলাগুলি হল— গোলাঘাট, হোজাই, কামরূপ, চরাইদেউ, যোরহাট, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, নগাঁও, কামরূপ মহানগর, কার্বি আংলং এবং তিনসুকিয়া। এখনও প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবে রয়েছেন। অন্যদিকে, কামরূপ মহানগর ও ডিব্রুগড় জেলায় নগর বন্যায় প্রায় ৫৯২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এনইইপিসিও (NEEPCO) দেইয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের চতুর্থ গেট খুলে দেয়। রাত ১১টায় আরও দু’টি গেট ১ মিটার করে এবং বাকি দু’টি গেট ০.৭৫ মিটার করে খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে সরুপথারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরুপথারের বিধায়ক বিশ্বজিৎ ফুকন সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভোরের দিকে ছেড়ে দেওয়া জল সরুপথার এলাকায় প্রবেশ করতে পারে। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রশাসন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
আরেকটি পোস্টে বিধায়ক জানান, দেইয়াং নদীতে এনইইপিসিও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার লিটার জল ছেড়ে দিচ্ছে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।



