বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুলাই : অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান, বাধ্যতামূলক প্রিপেড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা বাতিল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ রোধের দাবিতে সোমবার অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এজিএম, এপিডিসিএল শিলচর ডিভিশন-১-এর মাধ্যমে একটি স্মারকপত্র জমা দেওয়া হয়।
স্মারকপত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম বিদ্যুৎ মাশুল আদায় করা হলেও আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিডিসিএল) পর্যাপ্ত পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অঘোষিত লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে কাছাড় জেলায় লোডশেডিং নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের দাবি, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া বা ট্রান্সফরমার বিকলের মতো সমস্যার কথা তুলে ধরলেও আরডিএসএস প্রকল্পের আওতায় পরিকাঠামোর উন্নয়নের পরিবর্তে সরকার জোরপূর্বক প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
স্মারকপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে অসমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ন্যূনতম মূল্য ৫.২৫ টাকা। ১২০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের মূল্য ৭.৩০ টাকা এবং ২৪০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে আরও বেশি মূল্য দিতে হয়। অথচ দেশের বহু রাজ্যে বিদ্যুতের দাম কম এবং বিভিন্ন রাজ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাব ও রাজস্থানে ৩০০ ইউনিট, দিল্লি, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে ২০০ ইউনিট, ঝাড়খণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও বিহারে ১২৫ ইউনিট এবং মধ্যপ্রদেশে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে, আসামে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পূর্বের ভর্তুকিও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, পূর্ব-আলোচনা ছাড়াই এবং পুলিশের উপস্থিতিতে অনিচ্ছুক গ্রাহকদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে। অনেক গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্মার্ট মিটার বসাতে বাধা দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত “গড় বিল” চাপিয়ে সচল ডিজিটাল মিটার পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩-এর পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটি জানায়, গত ২ এপ্রিল সংসদে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং তা জোর করে বসানো যাবে না। উত্তরপ্রদেশের মতো কয়েকটি রাজ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকলেও আসামে জোরপূর্বক স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকপত্রে অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, সমস্ত আবাসিক গ্রাহককে ন্যূনতম ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান, স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা ঐচ্ছিক করা, জোরপূর্বক প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বেসরকারিকরণের উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। স্মারকপত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মধূসুদন কর, সুকল্পা দত্ত, মানস দাস, সীমান্ত ভট্টাচার্য, মৃণালকান্তি সোম, খাদেজা বেগম লস্কর, অরিন্দম দেব, পরিতোষ ভট্টাচার্য, গৌরাঙ্গ নাথ, স্নিগ্ধা নাথ, শঙ্কর প্রসাদ কৈরী, হিল্লোল ভট্টাচার্যসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।



