বরাক তরঙ্গ, ১২ জুলাই : একটানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে গুয়াহাটি সংলগ্ন জোরাবাট ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় উজান অসম ও নিম্ন অসমের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জল জমে থাকার কারণে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জোরাবাট এলাকার জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু থেকে কোমরসমান জল জমে রয়েছে। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং ছোট বাণিজ্যিক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বহু গাড়ির ইঞ্জিনে জল ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উজান অসম, কার্বি আংলং, ডিমা হাসাও, বরাক উপত্যকা এবং মেঘালয়ের দিক থেকে গুয়াহাটিগামী যানবাহনের ওপর। জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিও ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জোরাবাট এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে গুয়াহাটি পুলিশ বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি করে বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, উজান অসম থেকে গুয়াহাটিগামী এবং গুয়াহাটি থেকে উজান অসমমুখী হালকা যানবাহনকে নরেঙ্গি–ডিগারু হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে চালকদের যাত্রার আগে রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য জেনে তবেই রওনা হওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জলাবদ্ধতা দূর করতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। নিকাশি ব্যবস্থা সচল করার পাশাপাশি আটকে পড়া যানবাহন সরানোর কাজও চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জল নেমে গেলে দ্রুত স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নাগরিকদের সতর্ক থাকার, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।



