মিজোরাম পুলিশের একাধিক অভিযান, অবৈধ সামগ্রী সহ আটক শিলচরের দুই যুবক

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই : সম্প্রতি মিজোরামের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে মিজোরাম পুলিশ। ৭ জুলাই রাতে চাম্পাই পুলিশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স একটি বোলেরো ম্যাক্স (AS-01-TC-8784) আটক করে। গাড়িতে থাকা শিলচরের বাসিন্দা রাজীব হোসেন লস্কর (২৬) ও জিনুক উদ্দিন লস্কর (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে ৯টি বস্তায় রাখা প্রায় ২১০ কেজি মান্তা রে (Mobula Ray)-এর গিল প্লেট উদ্ধার হয়। আন্তর্জাতিক কালোবাজারে যার মূল্য প্রায় ২.৩০ কোটি টাকা। এটি মিজোরামে এ ধরনের সবচেয়ে বড় বাজেয়াপ্তের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার সামগ্রী, গাড়ি ও অভিযুক্তদের বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ জুলাই সাইতুয়াল পুলিশ স্পেশাল টিম কুয়ালমাওই চেকগেটে একটি টাটা ট্রাক (AS-01-SC-5973) তল্লাশি চালায়। চালক প্রথমে পালানোর চেষ্টা করলেও পরে তাকে আটক করা হয়। ট্রাক থেকে ১০২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০.৪০ লক্ষ টাকা। আটক চালকের নাম ফুলচাঁদ আলি মণ্ডল (৩৫), অসমের ধুবড়ি জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জোখাওথার থেকে আইজলগামী একটি টাটা সুমোতে তল্লাশি চালিয়ে ২৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মাদকটি গাড়ির পিছনের সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা ছিল। এ ঘটনায় মায়ান্মারের খাওমাওই এলাকার বাসিন্দা লালরিনছানা (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ম্যাক্সি ক্যাব সুমো থেকে ৪৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ
৬ জুলাই। জোখাওথার পুলিশ একটি ম্যাক্সি ক্যাব সুমো আটক করে। তল্লাশিতে যাত্রী থুয়ানমাউইয়া (৪২)-এর স্লিং ব্যাগ থেকে ৪৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। তিনি মিয়ানমারের ফালাম জেলার বাসিন্দা। ৫ জুলাই আইজলে প্রায় ২ কেজি মেথামফেটামিন উদ্ধার। ৬ জুলাই আইজল জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চ (DSB) ও ৩৪ আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে লাউইপু এলাকায় ১.৯৫৫ কেজি মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.৬০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় মামিত জেলার বাসিন্দা মার্কাস লালভেনপুইয়া (১৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে।

৫ জুলাই চাম্পাইয়ের খানকাউন পুলিশ চেকগেটে একটি ট্যাঙ্কার লরি (AS-07-C-5431) তল্লাশি চালিয়ে মায়ান্মার থেকে অবৈধভাবে আনা ২,৯৬০ কেজি শুকনো সুপারি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত সুপারির আনুমানিক মূল্য ১০.৩৬ লক্ষ টাকা। বৈধ নথি না থাকায় লরি ও বাজেয়াপ্ত সুপারি পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য কাস্টমস প্রিভেন্টিভ ফোর্স, চাম্পাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *