সড়ক সংস্কারের দাবিতে উত্তাল উত্তর ত্রিপুরা, অনির্দিষ্টকালের পথ অবরোধে স্তব্ধ জনজীবন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ জুলাই : দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা কদমতলা–রানিবাড়ি–তারকপুর সড়কের সংস্কারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তর ত্রিপুরা। বছরের পর বছর ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী রাস্তায় দুর্ভোগের শিকার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অনির্দিষ্টকালের পথ অবরোধে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারাও। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশাসহ শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। ফলে কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও হাসপাতালমুখী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কদমতলা থেকে রানীবাড়ি হয়ে তারকপুর পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙা পিচ, কাদা ও জল জমে থাকায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কার্যত কাদায় পরিণত হয়, ফলে যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীদের নিত্যদিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবার যানবাহনও প্রায়শই বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সড়ক সংস্কারের জন্য একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন, স্মারকলিপি এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজ শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মূল সড়কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত রাস্তারও বর্তমানে বিভিন্ন অংশে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নতুন বাজার, ধর্মনগর, লালছড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এই আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির স্বার্থেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের একমাত্র দাবি, অবিলম্বে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাসে আর তাঁরা সন্তুষ্ট নন।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত পথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। খবর লেখা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *