বিধানসভায় বরাকের জনস্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়কের

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই :
অসম বিধানসভার চলতি অধিবেশনে বরাক উপত্যকার দীর্ঘদিনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক। নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি সমগ্র বরাক উপত্যকার মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গুয়াহাটি-বরাক সড়কের স্থায়ী সমাধান, দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি

অধিবেশনে বিধায়ক বর্ষাকালে গুয়াহাটি-বরাক উপত্যকার একমাত্র প্রধান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী তথা পূর্তমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে জানতে চান, প্রতি বছর বর্ষায় এই সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার মূল কারণ কী এবং এর স্থায়ী সমাধানে সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ এবং কাজের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চান তিনি।

এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিধানসভায় লিখিত উত্তর দেওয়া হয়। পরে সেই উত্তর জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, গুয়াহাটি-বরাক সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং বরাক উপত্যকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি পরিষেবার অন্যতম লাইফলাইন। তাই প্রতি বর্ষায় এই সড়ক অচল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এছাড়াও দক্ষিণ করিমগঞ্জে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক। তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, দক্ষিণ করিমগঞ্জে দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, বর্তমানে কী কী প্রশিক্ষণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যুবকদের স্বনির্ভর করে তুলতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এই প্রশ্নেরও লিখিত উত্তর প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। বিধায়কের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এলাকার বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীর জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিকাশ ঘটলে স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
বিধায়ক বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, উন্নয়নের দাবি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিধানসভায় তুলে ধরা তাঁর সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বরাক উপত্যকার মানুষের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি ভবিষ্যতেও একইভাবে সোচ্চার থাকবেন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে ধারাবাহিকভাবে দাবি জানিয়ে যাবেন।
বিধানসভায় উত্থাপিত এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বরাক উপত্যকায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে গুয়াহাটি-বরাক সড়ক যোগাযোগের স্থায়ী সমাধান এবং দক্ষিণ করিমগঞ্জে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *