১ জুলাই : ভেনেজুয়েলায় কর্মরত এক ভারতীয় নাবিকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। মৃত নাবিক রাকেশ চৌহানের (৩৩) পরিবার অভিযোগ করেছে, প্রায় এক মাস পর যখন তাঁর দেহ দেশে ফেরে, তখন দেখা যায় দেহের ভেতরে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক সহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গই নেই। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার এবং নাবিক সংগঠন এফএসইউআই (FSUI)।
উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা রাকেশ গত নভেম্বরে মার্চেন্ট নেভিতে মেরিন ফিটার হিসেবে যোগ দিয়ে ভেনেজুয়েলায় যান। গত ৭ মে পরিবারের কাছে খবর আসে, জাহাজে কাজ করার সময় রাকেশ পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরদিনই কোম্পানি জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রাকেশের পরিবারের দাবি, দেহ দেশে পৌঁছানোর পর স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। তখনই নজরে আসে বীভৎস ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাকেশের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি, ফুসফুস, অন্ত্র সহ শরীরের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গই উধাও। এমনকি গলা থেকে তলপেট পর্যন্ত ২২টি সেলাইয়ের দাগ পাওয়া গিয়েছে। কোনও ভিসেরা অবশিষ্ট না থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখন আর জানার উপায় নেই।
ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় দেহ থেকে অঙ্গ বের করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মৃতের নথিপত্রে নাম ভুল এবং জাহাজের তথ্যে অসামঞ্জস্য থাকায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। কেন মৃতদেহ থেকে অঙ্গ সরানো হল এবং কেন পরিবারকে অন্ধকারে রাখা হল— এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইউনিয়ন। রাকেশের অসহায় পরিবার এখন ন্যায়বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নাবিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



