১ জুলাই : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানালেন দুই দেশের ১১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। ‘সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেস’-এর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি যৌথ খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন ভারতের ৬১ জন এবং পাকিস্তানের ৫৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মতে, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক আস্থাভাজন পদক্ষেপ (Confidence Building Measures) গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে এই চিঠিতে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য আকাশপথ পুনরায় খুলে দেওয়া।
আট্টারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা।
শ্রীনগর-মুজফফরাবাদ বাস পরিষেবা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার।
কর্তারপুর সাহেব করিডর এবং সারদা পীঠ দর্শনের সুযোগ বৃদ্ধি করা
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ভারতের ফারুখ আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি, মনোজ ঝা এবং পাকিস্তানের খুরশিদ মাহমুদ কাসুরি, আশরাফ জাহাঙ্গির কাজির মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, কাশ্মীর সহ সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়ে ২০০৪-২০০৭ সালের আলোচনার কাঠামোর ভিত্তিতে নতুন করে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হোক। এছাড়া সেনা প্রত্যাহার, উত্তেজনা হ্রাস এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের কথাও বলা হয়েছে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের সমর্থন নয়, বরং প্রায় ২০০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের স্বার্থে আলোচনার আহ্বান। যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে বারবারই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, “সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না” এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি সম্ভব নয়।
এই যৌথ আপিল দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শান্তি, সহযোগিতা ও উন্নয়নের পথে ফেরার একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন স্বাক্ষরকারীরা। এখন দুই দেশের সরকার এই বার্তার প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



