বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুন : আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে শিলচর গান্ধী ভবনে অনুষ্ঠিত সচেতনতা কর্মসূচিতে প্রোগ্রাম ম্যানেজার অনুপকুমার দত্ত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য তিনটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য উপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয় নাগরিক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
অনুপকুমার দত্ত তার বক্তব্যে বলেন, মাদক নির্মূলের জন্য প্রথম ধাপ হচ্ছে প্রতিরোধ—বিশেষত স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো ও ঝুঁকি কমানোর জন্য পরিকল্পিত শিক্ষা ও জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ চালু করা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার ব্যবহার বেড়েছে এবং তরুণ হাজেরা (স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা) সরাসরি টার্গেট হচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপে তিনি পুনর্বাসনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মাদকাসক্তদের মানুষিক ও সামাজিক পুনরাবাসের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রয়োজন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গঠন করতে পারে। তিনি বলেন, আইনগত দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ক্রিমিনালাইজেশনের বদলে পুনর্বাসন ও সহানুভূতিপূর্ণ সহায়তা কার্যকর পন্থা হতে পারে।
তৃতীয় এবং সমান্তরাল পদক্ষেপ হিসেবে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান দত্ত। তিনি কমিউনিটি লেভেলে পিতামাতাদের, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। স্থানীয় সংস্থা, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল করা সম্ভাব্য নয়, বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মিলিতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে মাদক ব্যবহারের প্রসার সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বিশেষত শিক্ষার্থী-যুবসমাজকে লক্ষ্যবস্তু করে দুর্বল করছে। সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যও বক্তৃতায় এই সমস্যার তাৎক্ষণিক মোকাবিলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও স্কুলগুলোকে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত সংগঠকরা বলেন যে প্রতিরোধ, পুনর্বাসন ও জনসচেতনতার ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত আন্দোলন ও কর্মশালা চালিয়ে জনগণকে সংযুক্ত করা হবে। তারা স্থানীয় সিভিক সোসাইটি, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৎপরতা বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



