হইচই ও বিতর্কে ভেস্তে গেল প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলনীর সোনাই শিক্ষাখণ্ডের কমিটি গঠন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুন : তুমুল হইচই, ক্ষোভ এবং প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলনীর সোনাই শিক্ষাখণ্ডের নতুন ব্লক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। মঙ্গলবার সোনাবাড়িঘাট এমভি স্কুলে অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষক সম্মিলনীর সোনাই শিক্ষাখণ্ডের নতুন ব্লক কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সভায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। শিলচর মহকুমা কমিটির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সভায় মহকুমা কমিটির সম্পাদক ফয়জুর রহমান বড়ভূইয়া, সুদীপ দে-সহ বিভিন্ন ব্লকের পদাধিকারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরু থেকেই প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সোনাই শিক্ষাখণ্ডে মোট ৩১টি ক্লাস্টার থাকলেও ভোটদানের জন্য মাত্র ২৬টি ক্লাস্টারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুমতি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কচুদরম-সহ বাদ পড়া পাঁচটি ক্লাস্টারের শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিবাদী শিক্ষকদের অভিযোগ, পাঁচটি ক্লাস্টারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁরা সভার মধ্যেই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। হাল্লা চিৎকার করে বাইরে চলে আসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক অদ্ভুদ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উপস্থিত একাংশ শিক্ষকের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিলচর মহকুমা কমিটির নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়। সময়মতো বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ না নেওয়ায় সভার স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায় এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বাধ্য হন আয়োজকরা।

জানা গেছে, সভার শুরুতেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিদায়ী ব্লক কমিটির সভাপতি শিবেন্দ্র দাস, সম্পাদক আজমল হোসেন বড়ভূইয়া-সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। এরপর সোনাই ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লতিবুর রহমান লস্করকে সভার সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছানোয় সেই প্রক্রিয়া আর এগোতে পারেনি।

ফলে নতুন ব্লক কমিটি গঠন ছাড়াই সভার সমাপ্তি ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বাদ পড়া ক্লাস্টারগুলির শিক্ষকরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান এবং সকল ক্লাস্টারের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পুনরায় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এ দিকে, উপস্থিত একাংশ শিক্ষকের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিলচর মহকুমা কমিটির নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ফলে সভার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *