অরুণাচলে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ধস: ৩৬ ঘণ্টায় কিমিন-পটিন সড়ক চালু করল বিআরও

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : অরুণাচল প্রদেশে কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের জেরে একাধিক জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার গুয়াহাটিতে প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত জানান, এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও) মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে কিমিন-পটিন সংযোগকারী সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি জানান, অবিরাম বর্ষণের ফলে অরুণাচলের কেইয়ি পানিয়র, পাপুম পারে, পূর্ব সিয়াং ও সিয়াং জেলায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব সিয়াং ও সিয়াং জেলায় পাহাড় ধসে নদীর প্রবাহ আটকে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে।

এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে অসমের ধেমাজি জেলাতেও। গাই নদীর ফুলে ওঠা জলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানান সেনা আধিকারিক।

প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, বিআরও-র প্রজেক্ট অরুণাঙ্কের অধীনে ৭৫৬ নম্বর বর্ডার রোড টাস্ক ফোর্স (বিআরটিএফ) কেইয়ি পানিয়র ও পাপুম পারে জেলার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কিমিন-পটিন সড়কের একাধিক ভূমিধসপ্রবণ অংশ পরিষ্কার করে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন করে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাথর, কাদা ও উপড়ে পড়া গাছের কারণে রাস্তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে পটিন, ইয়াজালি, ইয়াচুলি, জোরাম ও জিরো-সহ একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর জেরে জরুরি পণ্য সরবরাহ, উদ্ধারকারী দলের যাতায়াত এবং নাহারলাগুনের টোমো রিবা ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল সায়েন্সেসে রোগীদের পৌঁছানোও ব্যাহত হচ্ছিল।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত বলেন, “১৩ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিমিন-পটিন সড়ক দ্রুত চালু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। অসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে বিআরও প্রায় ৮০ জন কর্মী এবং একাধিক এক্সকাভেটর মোতায়েন করে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযান শুরু করে। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সড়কটি পুনরায় চালু হওয়ায় ত্রাণসামগ্রী পরিবহণ, জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসা সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আবার স্বাভাবিক হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *