বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : সোনাইয়ের রাঙ্গিরঘাট দ্বিতীয় খণ্ড এলাকায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত খাদিজা বেগম লস্করের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে নরসিংহপুর বড়জালেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা পিয়ার হোসেন বড়ভূইয়ার সঙ্গে খাদিজার বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উভয় পক্ষের মধ্যে সালিশি বৈঠক হলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি বলে দাবি করেছেন মৃতের ভাই আব্দুল মুমিত লস্কর।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি খাদিজাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও তাঁর স্বামী সেখানে গিয়ে যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সোমবার দুই ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে বাড়ির পাশের একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন খাদিজা। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে বিপক্ষের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



