মতবিনিময় সভার শেষদিকে পরিমল-দীপায়নের প্রকাশ্য মতবিরোধে সরগরম পরিবেশ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখা গেল। বিভাগীয় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের আমন্ত্রণপত্রে অতিথিদের তালিকায় কংগ্রেস বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সভায় উপস্থিত হলে সোনাইয়ের বিধায়ক তথা অসম বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ আমিনুল হক লস্করকে মঞ্চে যথাযথ সম্মান জানিয়ে আসন দেওয়া হয়।

সভার শেষদিকে শাসকদলের দুই নেতা—সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য ও প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মতবিরোধের ছবি সামনে আসে। নিজেকে চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষী উল্লেখ করে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য শহরের নানা সমস্যার জন্য সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকেও দায়ী করেন। তিনি বলেন, নাগরিকরা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করেন, ড্রেনে প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলেন এবং সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতন নন। একই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণকাজের জন্য ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদেরও কাঠগড়ায় তোলেন।

ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত রাস্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সিসি ব্লকের ওপর বিটুমিনের প্রলেপ কতদিন টিকবে তা নিয়ে তাঁর আগেই সংশয় ছিল। উপস্থিত নাগরিকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্রূপের সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “রাস্তা এক বছর টিকে গেছে, আমি তো ভেবেছিলাম ছয় মাসও টিকবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাকক্ষে উপস্থিতদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এরপরই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে জবাব দেন শিলচরের প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সিসি ব্লকের ওপর বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত বিষয় এবং এজন্য তাঁকে দায়ী করা ঠিক নয়।

দীপায়ন আরও জানান, ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেছে এনএইচআইডিসিএল। সংস্থাটি কেন্দ্রের অধীন হওয়ায় বিধায়কের পরামর্শ মানতে বাধ্য নয়। তাই তিনি মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের কাছে আবেদন জানান, শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি রাজ্যের পূর্ত দফতরের অধীনে আনা হোক, যাতে রক্ষণাবেক্ষণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হয়।
শহরের রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাস্তার মাঝ বরাবর থাকা পুরনো পানীয়জলের পাইপলাইনে ফুটো হলেই রাস্তা ভেঙে যায়। এর বিকল্প হিসেবে নতুন পাইপলাইন বসানো হয়েছে এবং আশ্রুত প্রকল্প চালু হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় নাগরিকরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলেও শিলচরের বর্তমান বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায়কে পুরো সময়ই নির্লিপ্ত দেখা যায়। এমনকি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আলোচনার সময়ও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তারাপুর শিববাড়ি রোডের এলিভেটেড করিডর প্রসঙ্গে দীপায়ন চক্রবর্তী বলেন, একসময় এই প্রকল্প নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও বর্তমানে তা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *