বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ অসম প্রান্তের সাংগঠনিক জেলা দক্ষিণ কাছাড়ের উদ্যোগে রবিবার বিকেলে নরসিংহপুরের এক বিবাহ ভবনে ‘প্রবুদ্ধ নাগরিক সংগোষ্ঠি’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ভারত মাতার পূজন এবং ‘বন্দে মাতরম’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রস্তাবিক বক্তব্যে দক্ষিণ কাছাড় জেলা কার্যবাহ অসীম বিশ্বাস বলেন, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত একশো বছরে সংঘ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছে সংঘের কার্যক্রম ও ভাবনা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি ‘পঞ্চ পরিবর্তন’-এর বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আসাম প্রান্ত প্রচারক গৌরাঙ্গ রায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বিরোধের নয়, বরং ঐক্যের আদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংঘকে নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনা হয়েছে, তবে সেগুলির অধিকাংশই ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি, নিরাপত্তা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংঘ কখনও আপস করেনি।
গৌরাঙ্গ রায় তাঁর বক্তব্যে সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডা. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের জীবন ও আদর্শের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে সংঘের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও সংগঠন তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, সংঘের মূল দর্শন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। এই ভাবনার ভিত্তিতে সমগ্র মানবজাতিকে এক পরিবার হিসেবে দেখার শিক্ষা দেওয়া হয়। তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তোলাই সংঘের অন্যতম লক্ষ্য। ভাষা, জাতি বা মতের বিভাজনের পরিবর্তে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মূল বক্তব্যের পর অনুষ্ঠিত মতবিনিময় পর্বে উপস্থিত নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গৌরাঙ্গ রায়। তিনি বলেন, পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বদেশী ভাবনার প্রসার এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার মধ্য দিয়েই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দক্ষিণ কাছাড় জেলা সম্পর্ক প্রমুখ সুরজিৎ রুদ্রপাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জেলা কার্যবাহ অসীম বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কাছাড় জেলা প্রচারক রাজদীপ পাল, সহ কার্যবাহ ভানু প্রতাপ কৈরী, ব্যবস্থা প্রমুখ কিশোর পাল, বৌদ্ধিক প্রমুখ সজল দে, সেবা প্রমুখ প্রদীপ দাস, প্রচার প্রমুখ পিনাক দাসসহ জেলা, খণ্ড ও মণ্ডল স্তরের একাধিক কার্যকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ কাছাড় জেলার পাঁচটি খণ্ডের ৪৮টি মণ্ডল থেকে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রায় ২০০ জনের উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।



