অযোধ্যার রামমন্দির প্রণামী চুরির পর্দাফাঁস: ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার, পুলিশের নজরে ট্রাস্টিদের একাংশ

Spread the news

২৭ জুন : অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর টাকা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড়। শুক্রবার থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ‘বিশেষ তদন্তকারী দল’ (সিট) মন্দির চত্বর এবং অভিযুক্তদের বিভিন্ন ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে হিসাব-বহির্ভূত ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু মন্দির কর্মী বা সেবাদাররাই নন, বরং কাঠগড়ায় উঠে এসেছে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের নামও।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গত দুই বছরে মন্দিরের প্রণামী হিসেবে সংগৃহীত কয়েক কোটি টাকা পরিকল্পিতভাবে লুট হয়েছে। মন্দিরের সেবাদার এবং প্রণামী গণনার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা সিসিটিভির নজরদারি এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কুকীর্তি চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সংগৃহীত সেই বিপুল অর্থ রিসর্ট, শপিং মল সহ বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ধৃত ৮ অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদের পর এই দুর্নীতির জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পরপরই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে চম্পত রাই এবং সদস্য (ট্রাস্টি) পদ থেকে অনিল মিশ্রের ইস্তফা। জানা গিয়েছে, ধৃতদের কয়েকজনের সঙ্গে এই দুই পদাধিকারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। লবকুশ ও অনুকল্প—যারা প্রণামী গণনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা অনিল মিশ্রের আত্মীয়। অন্যদিকে, ধৃত রামশঙ্কর ছিলেন চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক। এই যোগসূত্র প্রমাণ করে চুরির বিষয়টি নিছক সেবাদারদের কাজ নয়, এর পেছনে বড় কোনো ‘রাঘব বোয়াল’-এর হাত থাকতে পারে।

এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি সহ বিরোধী দলগুলো দাবি তুলেছে যে, চুনোপুঁটিদের ফাঁসিয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে।’’ ইতিমধ্যেই সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে ১৭ জন ব্যক্তিকে ‘দোষী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রায় দেড়শো সেবাদারের সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্দির উদ্বোধনের পর যখন প্রতিদিন ৬-৭ লক্ষ টাকা প্রণামী আসত, তা কীভাবে কয়েক মাসে হাজারে নেমে এল, সেই রহস্যভেদ করতেই এখন মরিয়া তদন্তকারীরা। ভক্তদের অনুদান নিয়ে এই দুর্নীতির ছায়া রামমন্দিরের পবিত্রতাকে কতটা কালিমালিপ্ত করল, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *