সাইবার ব্ল্যাকমেইলের জেরে মেঘালয়ের নারীর আত্মহত্যা, সুরাট থেকে গ্রেপ্তার উত্তরপ্রদেশের যুবক

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৫ জুন : দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলায় এক নারীকে সাইবার ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চলতি সপ্তাহে গুজরাটের সুরাট থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তার লাগাতার হুমকি ও হয়রানির জেরেই গত এপ্রিলে ওই নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাওকিরওয়াত গ্রামের বাসিন্দা বালাপিনশুন নংরুম তার বোনের মৃত্যুর ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বোন সাইবার হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার ছিলেন। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি পূরণ না করলে আপত্তিকর কনটেন্ট প্রকাশের ভয় দেখানো হতো।
ঘটনার পর মাওকিরওয়াত মহিলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা নং ০৪/২০২৬ রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান গুজরাটের সুরাট জেলায় শনাক্ত করা হয়। এরপর দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস পুলিশের একটি বিশেষ দল গুজরাটের পালাসিয়া থানার সহযোগিতায় ২৩ জুন দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

ধৃত যুবকের নাম সচিন নিশাদ (২২)। তিনি যোগেন্দ্র নিশাদের পুত্র এবং উত্তর প্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলার ভিদুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রানজিট রিমান্ডের মেয়াদের মধ্যে তাকে সুরাটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস আদালতে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণী এবং অনলাইন হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের নীরব না থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাইবার ব্ল্যাকমেইল, সেক্সটরশন এবং ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশের হুমকি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ জরুরি পরিষেবা নম্বর ১১২, সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০, নারী সহায়তা হেল্পলাইন ১৮১ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *