২৩ জুন : পরীক্ষা হলের বন্ধ দরজার সামনে কোনও বাবা মাথা ঠুকছেন, পিছনে হাপুস নয়নে কাঁদছেন মেয়ে, কোথাও আবার গেটের নিরাপত্তারক্ষীর হাতে–পায়ে ধরছেন পরীক্ষার্থীর মা। একটাই অনুরোধ, নিট রি–টেস্টের জন্য ঢুকতে দেওয়া হোক পরীক্ষাকেন্দ্রে! রবিবারের এমন বেশ কিছু ঘটনার সাক্ষী থাকল নিটের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো।
তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বেঙ্গালুরু। রবিবার বেলা দু’টো থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট–ইউজি)। পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা আগে, দেড়টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতেই হবে, এমনটাই ছিল জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ)–এর নির্দেশিকা। সেই মতো দেড়টার সময়ে বন্ধ হয়ে যায় পরীক্ষাকেন্দ্রের দরজা। বেঙ্গালুরুতে অনেক পড়ুয়াই বহুকষ্টে একেবারে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছেছেন, আবার তিন জন দেরিতে পৌঁছনোর কারণে পরীক্ষাই দিতে পারেননি। সেই সব পড়ুয়া ও তাঁর অভিভাবকরা দুষছেন কংগ্রেসকে। কারণ, কর্নাটকের কংগ্রেস সভাপতি পদে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া বিকে হরিপ্রসাদের শপথগ্রহণ উপলক্ষে রবিবার বেঙ্গালুরুর প্যালেস গ্রাউন্ডে মেগা কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই অনুষ্ঠানের জন্য বেঙ্গালুরুর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আটকে দেওয়া হয়, ব্যাপক যানজটে ফেঁসে পরীক্ষার হলে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায় অনেকেরই। একজন অভিভাবকের বক্তব্য, ‘রাহুল গান্ধী তো পড়ুয়াদের জন্য কোটায় গিয়েছিলেন, আর আজ তাঁরই দলের অনুষ্ঠানের জন্য এতজন পড়ুয়া সমস্যার মুখে পড়ল, এর দায় কি উনি নেবেন?’
বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতিও। কর্নাটকের বিজেপি সভাপতি বিওয়াই বিজয়েন্দ্র ইয়েদুরাপ্পা প্রশ্ন তোলেন, নিট পরীক্ষা আছে জেনেও কেন অনুষ্ঠান পিছোল না কংগ্রেস? তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস রাজনৈতিক লাভের জন্য পড়ুয়াদের ব্যবহার করে,অথচ তাঁদের কথা ভাবে না। বিজেপির তেজস্বী সূর্যেরও দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য অন্য দিন বাছতে পারত কংগ্রেস।
কংগ্রেসও অবশ্য চুপ নেই। কর্নাটকের মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গের বক্তব্য, ‘ফের মিথ্যে, আধা–সত্য খবর ছড়াচ্ছে বিজেপি। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার লোভে তেজস্বী সূর্য নাটক করছেন। গত এক দশকে ৮৯টি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। কেন্দ্র পড়ুয়াদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, এর জবাব কে দেবে? তা ছাড়া দিল্লি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি–শাসিত রাজ্যেও তো পড়ুয়ারা অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা হলে পৌঁছতে পারেননি, সেটাও কি কংগ্রেসের দোষ?’



