কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : লক্ষীপুর কেন্দ্রের ১৯টি গ্রাম-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে নিয়ে নতুন ‘ডিমারাজি’ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ডিমা হাসাও জেলার সঙ্গে এই অঞ্চলগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের বিষয়ে সরকারি স্তরে একাধিক পত্রালাপও হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদও দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডিমাসা নেতা নবদা জহরি, যিনি নবদা বর্মন নামেও পরিচিত। রবিবার দ্বিতীয়বারের মতো মন্ত্রিত্ব লাভের পর লক্ষীপুরে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রায়। তাঁকে স্বাগত জানাতে লক্ষীপুরজুড়ে অসংখ্য গেট ও তোরণ নির্মাণ করা হয়।
এদের মধ্যেই পয়লাপুল এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে একটি স্বাগত তোরণ স্থাপন করেন নবদা বর্মন। ওই তোরণে স্পষ্টভাবে “পয়লাপুল, ডিমারাজি” লেখা ছিল, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, পয়লাপুলকে প্রকাশ্যে ‘ডিমারাজি’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত বার্তা দেওয়া কার্যত বিতর্কিত প্রস্তাবকে সমর্থন করারই ইঙ্গিত।
ডিমারাজি গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই লক্ষীপুরের ১৯টি গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সেই পরিস্থিতিতে স্বাগত তোরণে ‘ডিমারাজি’ উল্লেখ করায় মানুষের আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ।
যদিও ডিমারাজি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রবল আপত্তি রয়েছে, তবুও নবদা জহরি প্রকাশ্যে এই শব্দ ব্যবহার করে মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পয়লাপুলের ওই তোরণে ‘ডিমারাজি’ উল্লেখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সঞ্চার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।



