করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতাল পরিদর্শনে জেলা কংগ্রেস, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবিতে সরব নেতৃত্ব

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের বর্তমান পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং রোগীসেবার বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। দলের নেতৃত্ব দেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী, আইনজীবী প্রদীপ কুরি, জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, শঙ্খপাল চৌধুরী, অহিরঞ্জন দে সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রতিনিধি দল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিষেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়।

পরিদর্শন শেষে শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ এবং উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ পান্না হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও পরিষেবাগত ঘাটতির বিষয়টি নিয়মিতভাবে সরকারের নজরে এনে আসছেন। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের দাবিতে দল ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার রয়েছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের কমিশনার ডাঃ এম লক্ষ্মণনের সাম্প্রতিক করিমগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, রোগীদের বসার জন্য নতুন চেয়ার বসানো হয়, হুইলচেয়ারের সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং ওষুধ সরবরাহ ও খাদ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করা হয়। দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ সমস্যারও সাময়িক সমাধান দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ বলেন, “আজ হাসপাতালের যে পরিবেশ দেখলাম, তা অনেকটাই ইতিবাচক। এতদিন ধরে যে সমস্যাগুলির কথা বলা হচ্ছিল, তার অনেকগুলির পরিবর্তন একদিনেই সম্ভব হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায়, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে উন্নয়ন সম্ভব।”

তিনি জানান, সাধারণ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা কংগ্রেস ভবিষ্যতেও হাসপাতালের কার্যক্রমের উপর নজরদারি চালিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ব্লাড ব্যাংক, ল্যাবরেটরি, এক্স-রে বিভাগসহ জরুরি পরিষেবাগুলি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং আইসিইউ ইউনিটকে আধুনিক সরঞ্জামে সমৃদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনকালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার বেহাল অবস্থারও সমালোচনা করেন তাপস পুরকায়স্থ। তাঁর অভিযোগ, বহু অ্যাম্বুলেন্স সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব স্পষ্ট। দ্রুত এসব যানবাহনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকেও শক্তিশালী করা জরুরি। গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের কারণে অধিকাংশ রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে আসতে হচ্ছে, ফলে সিভিল হাসপাতালের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি। শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার বৈষম্য দূর করে প্রতিটি নাগরিকের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।” জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের উন্নয়ন, রোগীদের স্বার্থরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের দাবিতে ভবিষ্যতেও আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলা অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *