বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : ছোট দুধপাতিল এলাকার শ্রীনগরস্থিত মুরলীধর গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার বেহাল অবস্থাকে কেন্দ্র করে সোমবার ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ইন্টার্নশিপরত ছাত্রছাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের। জানা গেছে, আরণ্যক ভ্যালিতে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্র্যাকটিক্যাল ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত এই রাস্তা ব্যবহার করেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এবং চলাচলের উপযোগিতা হারানোয় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার দশক ধরে রাস্তাটির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। একবার পঞ্চায়েতের জব কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে সামান্য সংস্কার করা হলেও বর্তমানে রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। ভাঙাচোরা রাস্তা, কাদা ও রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে মোটরসাইকেলসহ সাধারণ পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে এবং ছাত্রছাত্রী ও রোগীদের আহত হওয়ার খবরও মিলছে।

এলাকার বাসিন্দা অঞ্জলী সরকার জানান, এই রাস্তা সাতালটিলা, উরাংটিলা ও চইলতাকান্দি গ্রামের সঙ্গে উদারবন্দ বাইপাসের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রক্ষা করে। ফলে রাস্তাটি সংস্কার করা হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রতিদিন সকালে মাঠপর্যায়ের অনুশীলনের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। রাস্তার ভাঙা অংশগুলো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।”
এদিন রুকন খান, অজয় সরকার, বিকাশ দাস, বিজয় অধিকারী, শুভদীপ বৈদ্য, করুণাকান্তি দাস, সেবুল আহমদ, অমৃতশ্বর চন্দসহ বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিধায়ক কিশোর নাথ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে রাস্তার স্থায়ী নির্মাণ, প্রয়োজনীয় মেরামত ও রাত্রীকালীন আলোকসজ্জার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারেন তাঁরা।



