১৮ জুন : মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে ঈদ-উল আজহার দিন একটি হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় মাংস ফেলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তদন্তে তার নতুন মোড় এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভিতে বোরখা পরে দেখা যাওয়া ওই নারী মুসলিম নন। ঈদ-উল আজহার দিন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা ব্রাহ্মণ গলির একটি আবর্জনার স্তূপে মাংস পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছু মহল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টাও হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পৌরসভার কর্মকর্তারা পুলিশকে খবর দিলে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোতওয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ একটি বোরখাপরা নারীকে আবর্জনার স্তূপের কাছে মাংস ফেলতে দেখতে পায়। এরপর অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রায় ১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয় এবং সন্দেহভাজন নারীর সঙ্গে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাওয়া একাধিক মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ দিনের তদন্তের পর অবশেষে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম স্বাতী বিক্রম ভোঁসলে বলে জানান। তিনি আহমেদনগর তালুকার কামার গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, তিন সন্তানের ভরণপোষণের জন্য তিনি ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল।
পুলিশকে দেওয়া বয়ানে স্বাতী জানান, ঈদের দিন তিনি বোরখা পরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ভিক্ষা ও খাবারের সন্ধানে গিয়েছিলেন। সেখানে কেউ তাকে মাংস দেয়। তবে তিনি মাংসটি নিতে চাননি। পরে সেটি সঙ্গে নিয়ে এসে ব্রাহ্মণ গলির একটি আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেন বলে দাবি করেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “স্বাতী ভোঁসলে জানিয়েছেন, ঈদের দিন মুসলিম এলাকায় ভিক্ষা করতে গিয়ে তিনি মাংস পেয়েছিলেন। পরে সেটি নিজের প্রয়োজন না থাকায় ফেলে দেন।” তবে তার এই ব্যাখ্যা ঘিরে নতুন প্রশ্ন উঠেছে এবং আরও গভীর তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বাতী ভোঁসলের ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তবে তিনি কেন মাংসটি অন্য কোথাও না ফেলে নির্দিষ্টভাবে ব্রাহ্মণ গলিতে নিয়ে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা কিরণ কালে বলেন, স্বাতীর বক্তব্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
তার ভাষায়, “ভিক্ষা করার জন্য বোরখা পরার প্রয়োজন কেন হলো? ঈদের দিন সাধারণত কি ভিক্ষা হিসেবে মাংস দেওয়া হয়? যদি মাংসটি তার প্রয়োজন না-ই থাকে, তাহলে তিনি সেটি ফেরত দিলেন না কেন বা অন্য কোথাও ফেললেন না কেন? কেন সেটি ব্রাহ্মণ গলিতে নিয়ে যাওয়া হলো?” তিনি আরও বলেন, “এটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা উচিত। কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে দায়ীদের চিহ্নিত করে জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন।”
আহমেদনগরে অতীতেও সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ ঘিরে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ফলে ঈদের দিনে সংবেদনশীল এলাকায় মাংস পাওয়ার ঘটনাটি উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছিল। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুজব না ছড়ানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এ পর্যন্ত তদন্তে একটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে—সিসিটিভিতে দেখা বোরখাপরা নারী মুসলিম নন। তবে তার এই কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। সূত্র : Clarion India



