মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ আগস্ট : শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি থানার অন্তর্গত রাধাপ্যারি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর গোপালপুর (পিংচড়া) গ্রামে মাত্র ১২ দিনের এক নবজাতক কন্যাশিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে তদন্ত। প্রথমে ঘটনাকে ঘিরে ‘অপশক্তি’ ও রহস্যময় এক অচেনা মহিলার উপস্থিতির গুজব ছড়িয়ে পড়লেও, পুলিশের দাবি অনুযায়ী তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের জেরে শিশুটিকে কুয়োতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মা মন্টি দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পেশ করার পর তাঁকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গভীর রাতে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা ঘরে ঢুকে নবজাতক সুস্মিতা দাসকে নিয়ে পাশের কুয়োর দিকে চলে যায়। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বাজারিছড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় কুয়ো থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই পরিবারের বক্তব্যে অসংগতি লক্ষ্য করেন তদন্তকারীরা। কথিত অজ্ঞাত মহিলার উপস্থিতির পক্ষে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনও প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ শিশুটির মা মন্টি দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জেরার এক পর্যায়ে তিনি পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপের কারণে শিশুটিকে কুয়োতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের ভূমিকা ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনও কারণ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



