ফোনে মিলছে না ৬ সাংসদকে, উদ্ধব শিবিরে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা; মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে চর্চা

Spread the news

১৭ জুন : মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোরদার হয়েছে জল্পনা। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবিরের একাধিক সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলের অভ্যন্তরে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, দলের কয়েকজন সাংসদ উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন

সূত্রের দাবি, সম্প্রতি ‘মাতশ্রী’ বাসভবনে উদ্ধব ঠাকরের ডাকা এক বৈঠকে কয়েকজন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি কয়েকজন সাংসদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে।

বর্তমানে উদ্ধব শিবিরের মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৯ জন লোকসভার এবং একজন রাজ্যসভার সদস্য। রাজনৈতিক সূত্রের একাংশের দাবি, অন্তত ছয়জন লোকসভা সাংসদ একনাথ শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতে দলবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

মহারাষ্ট্রের পরিবহণমন্ত্রী ও শিবসেনা (শিন্ডে শিবির) নেতা প্রতাপ সারনাইক এক বিবৃতিতে বলেন, বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শে বিশ্বাসী কেউ যদি তাঁদের দলে যোগ দিতে চান, তাহলে দলের দরজা খোলা রয়েছে। এর পর থেকেই সম্ভাব্য দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে একটি অভিযানের আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, উদ্ধব শিবিরের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে দলে কোনও ভাঙনের পরিস্থিতি নেই এবং সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাংসদদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে অন্য পক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের আরেক নেতা অনিল দেশাইও ভাঙনের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই শিবসেনা অতীতের মতো বর্তমানের চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, রাজনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে সম্ভাব্য পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সাংসদের দলত্যাগ বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসেনি, তবুও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *