ঝাড়খণ্ডে ‘জেন জি’-র প্রতিবাদী ঢেউ, বিধানসভা ঘেরাও পড়ুয়াদের

Spread the news

১০ আগস্ট : দিল্লি ও কলকাতার পর এবার ‘জেন জি’-র প্রতিবাদী ঢেউয়ের আঁচ ঝাড়খণ্ডে। সোমবার রাঁচিতে পড়ুয়াদের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। কিন্তু ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পথে নামা তরুণদের প্রতিবাদে ভেঙে পড়ে পুলিশের একের পর এক প্রতিরোধ।

বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়া আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তবে তাতেও দমে যাননি বিক্ষোভকারীরা। বরং জলকামানের সামনে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদী ছাত্রদের একাংশকে নাচতে দেখা যায়। তাঁদের মূল দাবি একটাই—সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরীক্ষা হল JPSC এবং JSSC। সম্প্রতি এই দুই পরীক্ষাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে আসছিলেন পড়ুয়ারা। তাঁদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে অনশনে যোগ দেন ঝাড়খণ্ডের লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা তথা সমাজকর্মী দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো।
আন্দোলনের চাপে পড়ে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার টেবিলে ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। কিন্তু সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এরপরই সোমবার বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেন পড়ুয়ারা। তাঁদের নেতৃত্বে রয়েছেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো।

পুলিশি বাধা ও জলকামানের মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মাহাতো। তাঁর বক্তব্য, “এটা কারও একার দাবি নয়। আমরা স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা চাই। এটা লাখো মানুষের দাবি। এই দাবি আমরা আদায় করেই ছাড়ব।”
পড়ুয়াদের এই আন্দোলনে যোগ দেন সাধারণ মানুষও। এমনকি স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে এক ব্যক্তিকেও বিধানসভা ঘেরাও অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমি ঝাড়খণ্ডে এসেছি এই বিক্ষোভে যোগ দিতে। কারণ, আমাদের রাজ্য সরকার বধির। পড়ুয়াদের কথা, রাজ্যবাসীর কথা তাদের কানে পৌঁছয় না। আমাদের কথা তারা শোনে না, আমাদের জন্য কিছু করতেও চায় না।”
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থার দাবিতে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের এই আন্দোলন সোমবার নতুন মাত্রা পায়। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও নিজেদের দাবি থেকে সরে আসতে নারাজ আন্দোলনকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *