১০ আগস্ট : ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন (WFI)-এর প্রাক্তন প্রধান ব্রীজভূষণ শরণ সিংয়ের (Brij Bhushan Sharan Singh) বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্তার অভিযোগ খারিজ করে দিল দিল্লির একটি আদালত। গত ৩ অগাস্ট রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার ব্রীজভূষণ এবং সহ-অভিযুক্ত তথা ফেডারেশনের প্রাক্তন সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমারকে এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস করে দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্রীজভূষণের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ছিল “মিথ্যা ও বানোয়াট” এবং পুরো ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
দিল্লি পুলিশের চার্জশিটের ভিত্তিতে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন মূল অভিযোগকারী দুই কুস্তিগীরই বয়ান বদল করেন এবং ট্রায়ালের সময় সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে গিয়ে তারা বিরূপ (hostile) আচরণ করেন। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার অভিযোগকারীরা ঘটনার পরেও অভিযুক্ত ব্রীজভূষণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। এমনকি তাঁর পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই তারা কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি এবং কোনো উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি। বিচারক মনে করেন, অভিযোগগুলির মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে এবং সময়কাল পর্যালোচনা করলে তা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হয়। ফলে প্রসিকিউশন পক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে “শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ” হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রীজভূষণের বিরুদ্ধে এই যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন ধরে একটানা ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কুস্তিগীররা। ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক এবং বজরং পুনিয়ার মতো তারকারা সেই প্রতিবাদের সামনের সারিতে ছিলেন। এর আগে এক নাবালিকা কুস্তিগীরের করা পকসো (POCSO) মামলাটিও পরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত ক্লোজার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ।
এদিকে আদালতের এই রায়ের পর ব্রীজভূষণ শরণ সিং দাবি করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। গলায় মেডেল পরানোর সময়কার সাধারণ শারীরিক স্পর্শকে বিকৃত করে এই বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। তবে দমে যাওয়ার পাত্রী নন কুস্তিগীররা। আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তারকা কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাট ইতিমধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের আইনি দল এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এই আইনি লড়াই এখন কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।



