দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুন : গুরুচরণ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর তার স্থায়ী ও বৃহৎ ক্যাম্পাস স্থাপনের লক্ষ্যে শিলচরের দুধপাতিল অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জিসি ইউনিভার্সিটি ডিমান্ড কমিটি। পর্যাপ্ত সরকারি খাস জমি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই দাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিম্যান্ড কমিটির আহ্বায়ক তন্ময় পুরকায়স্থ জানান, দুধপাতিল সংলগ্ন মুরলীধর, লেবুরবন্দ, পুটিচড়া ও কানাইকুড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রায় ৩০০ বিঘা সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একাধিক প্রতিনিধি দল ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং জমির অবস্থান ও পরিকাঠামোগত সুবিধা নিয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছে।
তন্ময় পুরকায়স্থের মতে, শিলচর শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুধপাতিল এলাকার অন্যতম বড় সুবিধা হল এর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিকটবর্তী রেলস্টেশন, নির্মীয়মাণ ডলু গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর এবং জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযোগ থাকায় ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত উপযোগী।
এদিন জেলা পরিষদের সভাপতি কঙ্কন শিকদারও দুধপাতিল এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের পর এই অঞ্চলটিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় সমাজকর্মী লালবাসী দাস বলেন, দুধপাতিলে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলে শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডিমান্ড কমিটির দাবি, বরাক উপত্যকায় উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুধপাতিল এলাকায় জিসি ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ও সুবিশাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করা হোক।



