জনসংযোগ, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১২ জুন : সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে শ্রীভূমি জেলায়ও শুক্রবার বিশ্ব শিশু শ্রম বিরোধী দিবস পালন করা হয়। এই উপলক্ষে শ্রম বিভাগ থেকে শ্রীভূমি শহরে শিশু শ্রম বিরোধী সচেতনতার জন্য মাইকিং করে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। শ্রম বিভাগ ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করা এনজিও উদীচী-র সহযোগিতায় শ্রীভূমি শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। এতে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে যখন শিশুশ্রম বিরোধী দিবস পালিত হচ্ছে, তখন বিশ্ব সম্প্রদায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আহ্বানে শামিল হয়েছে। “শিশু শ্রমকে লাল কার্ড, শিশুদের জন্য ন্যায্য পাওনা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কাজ”। এই শক্তিশালী স্লোগানটি আমাদের সামাজিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে জরুরিভাবে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানায় এবং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কীভাবে সস্তা ও অবৈধ শ্রমের জন্য লক্ষ লক্ষ শিশুর শৈশবকে আজ বলি দেওয়া হচ্ছে। এই সংকট একটি নিজস্ব আঞ্চলিক জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। যা বরাক থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত চা-বাগানগুলির সবুজ বিস্তীর্ণ প্রান্তর থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত, ধাবা, গ্যারেজ কিংবা গৃহস্থালির কাজ-সব স্থানেই শিশুশ্রম এক নির্মম বাস্তবতা। চরম দারিদ্র্য, প্রতি বছরের বন্যা এবং সুযোগের অভাবের কারণে এই শিশুরা শ্রমের বাজারে নামতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা এবং একটি নিরাপদ শৈশব পাওয়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এতে শ্রীভূমির শ্রম আধিকারিকের কার্যালয়ের উদ্যোগে ও উদীচী এনজিও-র সহযোগিতায় শুক্রবার চলমান মাইক যোগে শ্রীভূমি শহরে প্রচার চালানো হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলা হয়েছে। আহ্বানে জানানো হয়েছে এই অভিশাপ দূর করার কাজটি কেবল আইনি ব্যবস্থা বা সরকারি সংস্থার উপর ছেড়ে দিলে চলবে না। এই দুষ্টচক্র ভাঙ্গার ক্ষমতা প্রত্যেক সাধারণ নাগরিকের হাতে রয়েছে। তাই নিজেদের মধ্যে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে শূণ্য সহনশীলতা বা জিরো টোলারেন্স নীতি গড়ে তুলতে হবে। এতে নিজের বাড়ি, দোকান বা ব্যবসায় কোন শিশুকে কাজে না রাখার প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যদি কোন শিশুকে বিপজ্জনক বা অবৈধ পরিস্থিতিতে কাজ করতে দেখা যায় তবে অবিলম্বে জাতীয় হেল্পলাইন চাইল্ডলাইন ১০৯৮ অথবা অনলাইন পেন্সিল (PENCIL) পোর্টালে জানাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কাজ ও ন্যায্য মজুরির পক্ষে কথা বলতে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে কোনো অসহায় পরিবারকে তার শিশুর সামান্য আয়ের উপর নির্ভর করতে না হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বন্দী রেখে উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লালকার্ড দেখিয়ে জনগণ শিশুদের ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিতে পারেন। যেন তাদের হাতে ভারী বোঝার বদলে শোভা পায় স্কুলের বই।



