পাম্প থেকে আর মিলবে না পাইকারি তেল, জ্বালানি সঙ্কটে কড়া কেন্দ্র

Spread the news

১২ জুন : সাধারণ মধ্যবিত্ত ও খুচরো গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। শিল্প ক্ষেত্র, ব্যবসা কিংবা কোনও বড় সংস্থার বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আর সাধারণ পেট্রল পাম্প থেকে মিলবে না পেট্রল বা ডিজেল। পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে সস্তায় জ্বালানি কেনার দিন শেষ কর্পোরেট দুনিয়ার। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশের পেট্রল পাম্পগুলি এবার থেকে শুধুমাত্র সাধারণ ও খুচরো গ্রাহকদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে।

সূত্রের খবর, মূলত ডিজেলের কালোবাজারি এবং অপব্যবহার রুখতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত। এতদিন দেখা যাচ্ছিল, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত পাম্প থেকেই সস্তায় দেদার তেল কিনছিল বিভিন্ন কল-কারখানা ও বড় বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের এখন থেকে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির পাইকারি বিপণন কেন্দ্র বা ‘হোলসেল ডিপো’ থেকে জ্বালানি কিনতে হবে।

কেন্দ্রের যুক্তি, বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা তীব্র তেল সঙ্কটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ফলে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পাম্পগুলিতে ভরতুকিযুক্ত মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করা হয়। কিন্তু বড় সংস্থাগুলি সেই ভরতুকির ফায়দা তোলায় লোকসানের বহর আরও বাড়ছিল।

হিসেব বলছে, সাধারণ পেট্রল পাম্পে যে ডিজেল লিটার প্রতি ৯৫ টাকা ২০ পয়সায় মিলছে, সেটাই সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার থেকে পাইকারি দরে কিনতে গেলে বড় ব্যবসায়ীদের গুনতে হবে লিটার প্রতি ১৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ, লিটার প্রতি প্রায় ৩৯ টাকা ৩০ পয়সা বেশি খরচ করতে হবে শিল্পসংস্থাগুলিকে। যেহেতু সরাসরি তেল কিনলে কোনও ভরতুকি মেলে না, তাই এই ব্যবস্থার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির লোকসানের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদিও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, দেশে যে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা মুখে স্বীকার না করলেও কেন্দ্রের একের পর এক পদক্ষেপে তা স্পষ্ট। গত মাসেই দফায় দফায় ৩ বার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অঘোষিতভাবে তেল সরবরাহে রাশ টানা হয়েছে। এবার শিল্পক্ষেত্রেও রাশ টেনে মোদি সরকার প্রকারান্তরে দেশের আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের কথাই বুঝিয়ে দিল বলে মনে করছে সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *