মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ জুন : দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অসম মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তিন দিন পর সোমবার রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের অনুমোদনের ভিত্তিতে অসম সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বণ্টন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন দফতর বণ্টনের পর মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ‘টিম অসম’-এর সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্য তাঁদের নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মানসিকতাকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও বলেন, “অসমের উন্নয়ন ও অগ্রগতির যাত্রাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতে ‘টিম অসম’ সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত অসম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাব।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দপ্তর বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রকের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই দপ্তর বণ্টন কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়; বরং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
রাজ্যে গত কয়েক বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পায়ন, পর্যটন বিকাশ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে আরও ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নতুন দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সামনে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে উন্নয়নের নতুন মাইলফলক স্থাপনের সুযোগ। সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, গ্রামীণ ও শহুরে অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় পর্যায়ে দফতর বণ্টনের ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এখন সকলের নজর থাকবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা কত দ্রুত তাঁদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হন তার ওপর।
এদিন সব মন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, “ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং জনসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ‘টিম অসম’ রাজ্যের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। আমরা এমন এক অসম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।”



