বরাক তরঙ্গ, ৮ জুন : অসম সহ বরাক উপত্যকার শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক গর্বের খবর। শিলচরের মেধাবী ছাত্র অরিন্দম সী স্কলারশিপ সহ এবার দেশের অন্যতম সেরা গণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চেন্নাই ম্যাথম্যাটিক্যাল ইনস্টিটিউট (CMI)-এ গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি (অনার্স) কোর্সে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে অরিন্দম শুধু নিজের পরিবারকেই নয়, শিলচর তথা সমগ্র অসমকেও গর্বিত করেছে।
চেন্নাই ম্যাথম্যাটিক্যাল ইনস্টিটিউট দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। গণিত, তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রী এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আবেদন করলেও সুযোগ পায় মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। ফলে সিএমআই-এ ভর্তি হওয়াকে দেশের সবচেয়ে কঠিন গণিতভিত্তিক সাফল্যগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়।
অরিন্দমের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং কঠোর পরিশ্রম। গত ছয় বছর ধরে সে শিলচরের ড. কালাম ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন (KISE)-এর ছাত্র ছিল। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং সঠিক দিকনির্দেশনায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে তার গণিতের ভিত এবং গবেষণামুখী চিন্তাশক্তি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি অরিন্দমের বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিও সে সমান গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে গেছে। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই ফল মিলেছে সিএমআই-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ লাভের মাধ্যমে।
অরিন্দমের পরিবারের সদস্যরা জানান, এই অর্জন শুধু একজন ছাত্রের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের অবদান। বিশেষ করে KISE-এর শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম, স্নেহ, পরামর্শ এবং গণিতের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার প্রচেষ্টা অরিন্দমের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধুদের উৎসাহ ও আশীর্বাদও তাকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
উচ্চশিক্ষার জন্য শীঘ্রই চেন্নাই পাড়ি দেবে অরিন্দম। পরিবারে একদিকে যেমন আবেগঘন পরিবেশ, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে সীমাহীন আশা। কারণ বিশ্বের অন্যতম সেরা গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনার সুযোগ যে কোনও মেধাবী ছাত্রের কাছেই এক বিরল অর্জন।
শিক্ষানুরাগী মহলের মতে, অরিন্দমের এই সাফল্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংকেই সাফল্যের একমাত্র পথ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে গণিত, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা এবং তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রেও অসংখ্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিএমআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া সেই নতুন সম্ভাবনারই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক উত্তমকুমার সী ও রুমি সী-র একমাত্র সন্তান অরিন্দম এর আগেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং জেইই মেইনস পরীক্ষাতেও তার উজ্জ্বল ফলাফল সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ধারাবাহিক সেই সাফল্যের পথ ধরেই এবার সে পৌঁছে গেল দেশের অন্যতম সেরা গণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দোরগোড়ায়।
অরিন্দমের এই অর্জনে শিলচরের শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক, সহপাঠী এবং শুভানুধ্যায়ীরা মনে করছেন, তার এই সাফল্য আগামী দিনে বরাক উপত্যকার আরও বহু ছাত্রছাত্রীকে গণিত ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
শিলচরের এই মেধাবী তরুণের আগামী পথচলার জন্য সর্বস্তর থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। অনেকের মতে, অরিন্দমের এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের গর্ব নয়, বরং সমগ্র বরাক উপত্যকা ও অসমের শিক্ষাক্ষেত্রের জন্যও এক উজ্জ্বল অধ্যায়।



