সাক্ষীকে মারধর-হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সমর্থের বন্ধুদের বিরুদ্ধে, ত্বিষার মৃত্যু তদন্তে নয়া মোড়

Spread the news

২ জুন : মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার মৃত্যুকাণ্ডে সামনে এল নয়া অভিযোগ। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অভিযোগ করেছেন যে, ত্বিষার স্বামী অভিযুক্ত সমর্থ সিং-এর বন্ধুরা তাঁকে মারধর করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্যেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী সাক্ষীর নাম নীরজ দুবে। তিনি ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় সমর্থ সিংদের বাড়ির কাছেই একটি স্যাঁলো চালান। নীরজের দাবি, ৩০ মে চার থেকে পাঁচ জন যুবক তাঁর উপর হামলা চালায়। তারা তাঁকে প্রশ্ন করে কেন তিনি এই মামলায় সাক্ষী হয়েছেন এবং আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।

নীরজ দুবের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিবাদ করতেই ওই যুবকেরা তাঁকে মারধর করে। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। পরে নীরজ কাটারা হিলস থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশি সুরক্ষার আবেদন জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর তদন্ত করছে সিবিআই। গত ১২ মে ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্বিষার দেহ। তিনি উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা ছিলেন এবং এমবিএ পাশ করার পর দিল্লিতে চাকরি করতেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও ছিল বলে দাবি পরিবারের। এই মামলায় সমর্থ সিং এবং তাঁর মা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধে পণপ্রথা, শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।

সিবিআই ইতিমধ্যেই সমর্থ সিং এবং গিরিবালা সিংকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণ, ফরেন্সিক ম্যাপিং, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। আদালতও তদন্তে প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।
খবর : এইসময় অনলাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *