৩১ মে : এ বারের IPL-এর শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই খেলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। গত মরশুমের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বারও ট্রফি নিজেদের দখলে রাখলেন বিরাট কোহলিরা। রবিবার গুজরাট টাইটান্সের (GT) বিরুদ্ধে ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল RCB-র হাতেই। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শুবমান গিলদের ৫ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল RCB। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI) এবং চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দু’বার IPL জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
ফাইনালে টস হেরে গুজরাট প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে, জবাবে RCB ১৮.০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান করে লক্ষ্য পূরণ করে। বিরাট কোহলির (Virat Kohli) নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা, আর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মিলিয়ে এ দিন যেন একেবারে একতরফা হয়ে ওঠে ফাইনাল ম্যাচ।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় RCB। শুরু থেকেই তাদের পেস আক্রমণ গুজরাটকে চাপে ফেলে দেয়। জশ হ্যাজ়েলউড এবং ভুবনেশ্বর কুমার নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন। গুজরাটের ওপেনার শুবমান গিল মাত্র ১০ রানে আউট হন। এর পর সাই সুদর্শন ১২ রানে ফেরেন। পাওয়ার প্লে শেষ হয় ২ উইকেটে ৪৫ রানে। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে গুজরাট। আর কোনও বড় জুটি গড়ে ওঠেনি তাদের।
একমাত্র ওয়াশিংটন সুন্দরই কিছুটা লড়াই করেন। যদিও তাঁর যখন ৭ বলে ৪ রান চিল, সেই সময়ে তাঁর ক্যাচ ধরা হয়েছিল, তবে সেই ক্যাচের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায়, তাঁকে তৃতীয় আম্পায়ার আউট দেননি। শেষমেশ তিনি ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। তাঁর এই ইনিংসই গুজরাটকে ১৫০ রান পার করতে সাহায্য করে। সুন্দর ছাড়া গুজরাটের বাকি ব্যাটারা কেউই ২০ রানের গণ্ডিই টপকাতে পারেননি। GT শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানেই থেমে যায়।
RCB বোলারদের মধ্যে রাসিখ সালাম ৩ উইকেট নেন। এ ছাড়া জশ হ্যাজ়েলউড এবং ভুবনেশ্বর কুমার ২টি করে উইকেট তুলে নেন।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে RCB শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। বেঙ্কটেশ আইয়ার দারুণ শুরু করেন এবং ১৬ বলে ৩২ রান করেন। কোহলির সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে দ্রুত রান তোলেন। প্রথম ৩.৩ ওভারে ৫০ রান উঠে যায়। পাওয়ার প্লে শেষে RCB-র স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৭০ রান। লক্ষ্য কম হলেও ম্যাচের গতি একদম বদলায়নি।
এর পর রশিদ খান বল করতে এসে কিছুটা চাপ তৈরি করেন। তিনি প্রথমে অধিনায়ক রজত পতিদারকে আউট করেন, যিনি ১৫ রান করেন। এর পর ক্রুণাল পান্ডিয়া ১ রানে আউট হন। তাঁকেও ফেরান রশিদ। তবে বিরাট কোহলি ক্রিজে থাকায় পুরো সময়ের খেলাই RCB-র নিয়ন্ত্রণে ছিল।
বিরাট কোহলি আবারও দেখালেন কেন তিনি ‘চেজ় মাস্টার’। এ দিন ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন কোহলি। এ ছাড়া টিম ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রান করেন। শেষ দিকে জিতেশ শর্মা ১৪ বলে অপরাজিত ১১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত RCB ১৮.০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান করে ম্যাচ জিতে নেয়। অর্থাৎ ১২ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে তারা।



