‘বেশি করে জল পান করুন…’, ‘মন কী বাত’-এ  আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Spread the news

৩১ মে : দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের আবহে রবিবার ‘মন কী বাত’-এর ১৩৪তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে রইল তাই নিয়ে উদ্বেগ। দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন, দেশের বহু অংশে মারাত্মক গরম ও লু বইছে। তাই সুস্থ থাকতে সকলকে নিয়মিত জল খেতে হবে, রোদে বেরোলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। গরমে সুস্থ থাকতে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতেও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ, জল সংরক্ষণ, খেলাধুলা এবং সামাজিক সেবার নানা দিকও তুলে ধরেন তিনি।

এ দিনের অনুষ্ঠানে গরম মোকাবিলায় ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয়ের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি সতর্ক করে বলেন,‘এই সময় দেশের অধিকাংশ অংশেই তীব্র গরম পড়ছে। প্রবল রোদ ও গরম হাওয়ার মধ্যে নিজেদের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। নিয়মিত জল পান করুন। খুব প্রয়োজন না হলে রোদে বেরোবেন না, আর বেরোতেই হলে সাবধান থাকুন।’

তাঁর কথায়, ‘গরম পড়তেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের ধরন বদলে যায়। কোথাও মাটির হাঁড়িতে জল রাখা হয়, কোথাও বাড়িতেই দই পাতানো হয়, আবার কোথাও কাঁচা আম সেদ্ধ করে গরম থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করা হয়।’

গরমে দেশীয় পানীয় খাওয়ারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তাঁর মুখে উত্তর ভারতের আমপানা, পাঞ্জাব-হরিয়ানা এলাকার লস্যি, রাজস্থান-গুজরাটের ছাঁস, বিহার-ঝাড়খণ্ডের ছাতুর শরবত, কোক্কণ ও গোয়ার কোকুমের বিখ্যাত শরবত এবং দক্ষিণ ভারতের পানাকাম ও সাম্বারমের উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এই সব পানীয় শুধু শরীর ঠান্ডা রাখে না,‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও তুলে ধরে।

প্রধানমন্ত্রী এদিনের অনুষ্ঠানে গরমের ফল আমের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, গরম পড়লেই দেশের প্রতিটি বাড়িতে আম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মহারাষ্ট্রের হাপুস (আলফানসো), গুজরাতের কেশর, উত্তরপ্রদেশের দশেহরি এবং বারাণসীর ল্যাংড়া আমের নাম উল্লেখ করে তিনি ভারতের আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন।

এর আগে গত সপ্তাহেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে লিখেছিলেন,

‘নিজেদের হাইড্রেটেড রাখুন, বাইরে বেরোলে জল সঙ্গে রাখুন। সম্ভব হলে বাড়িতে জিনিস দিতে আসা তৃষ্ণার্ত মানুষকে এক গ্লাস জল দিন।’ পাশাপাশি পশু-পাখিদের জন্য বাড়ির বাইরে জল রাখারও আবেদন জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *