৩০ মে : ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে তেহরানকে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নতুন চুক্তির জন্য চারটি প্রধান শর্তের কথা তুলে ধরেন।
প্রথমত, ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে দেশটি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই উভয়মুখী যাতায়াতের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত রাখতে হবে।

তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা কোনো মাইন বা বিস্ফোরক থাকলে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অপসারণের দায়িত্বও ইরানকেই নিতে হবে। চতুর্থত, ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা বা বাঙ্কারে সংরক্ষিত সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শনাক্ত করে তা ধ্বংস করার উদ্যোগ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান যদি এসব শর্ত মেনে নিয়ে নতুন চুক্তিতে সম্মত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে বর্তমান নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



