বরাক তরঙ্গ, ২৮ মে : ধলাই দক্ষিণে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি প্রশাসনের তৎপরতা ও সমাজের সচেতন মহলের উদ্যোগে এবারের ঈদ উৎসব সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
গরু কোরবানি দেওয়া নিয়ে প্রথমদিকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও ধলাই সমজেলার আধিকারিক, ধলাই পুলিশ, দক্ষিণ ধলাই মসজিদ কো-অর্ডিনেশন কমিটি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সময়োপযোগী পদক্ষেপে সেই বিভ্রান্তি দূর হয়। এবারের ঈদের বিশেষ দিক ছিল, মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মানুষ গরু কোরবানি থেকে বিরত থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী ছাগল কোরবানি দেন। গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ঈদের বাজার প্রথমদিকে তেমন জমে ওঠেনি। তবে শেষ মুহূর্তে প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন বাজারে কেনাকাটার ভিড় চোখে পড়ে। সেলুন, চুড়ি-মালা, পোশাক, চপ্পল ও রেশন সামগ্রীর দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

প্রবল বৃষ্টির ফলে ভাগাবাজার বাম ঈদগাহ ময়দান কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় নির্ধারিত ঈদগাহের পরিবর্তে সকাল আটটায় ভাগাবাজার জামে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আফজল হোসেন লস্কর।
অন্যদিকে, রাজঘাট বাম ঈদগাহ ময়দানে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদের নামাজ আদায় করান বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ মওলানা ফখরুল ইসলাম লস্কর। রাজঘাট ও চান্নিঘাট ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়ান মওলানা আমির হোসেন। হাওয়াইথাং ঈদগাহ ময়দানে ইমামতি করেন মওলানা কারি রিয়াজ উদ্দিন। ইসলামাবাদ জামে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ান হাফিজ মওলানা জহিরুল ইসলাম এবং সপ্তগ্রাম ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পরিচালনা করেন মওলানা ইসমাইল আল কাসিমি। প্রত্যেক ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের নামাজের আগে ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং সরকারের বিধিনিষেধ মেনে কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নামাজ শেষে দেশের শান্তি, উন্নতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদের দিন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেজন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে প্রবল উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধলাই দক্ষিণে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল আজহা। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।



